Comment

আল্লাহূমারজুকনি বি হালালিকা আন হারামিক ও আহনিনি বি ফাদলিকা আম্মান সিবাক

আল্লাহূমা-রযুকনি বি-হালালিকা আন হারামিক"হে আল্লাহ! আমাকে হারাম থেকে দূরে রেখে হালাল রিজিক দান করুন।"ওয়া আহনিনি বি-ফাদলিকা আম্মান সিবাক"এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে আপনার (হারাম থেকে) বাঁচানো থেকে স্বস্তি দান করুন।"


এই সংক্ষিপ্ত প্রার্থনাটির মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। হালাল শুধু খাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি ব্যাপক জীবনব্যবস্থা, যার অন্তর্ভুক্ত,অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড,উপার্জনের পদ্ধতি, বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক লেনদেন। পেশাগত আচরণ ন্যায়সংগততা, দায়িত্বশীলতা, অসাধুতার অনুপস্থিতি


আরো পড়ুন : হালাল রিজিক


ব্যক্তিগত সম্পর্ক সততা, বিশ্বস্ততা, আমানতদারী

সামাজিক মিথস্ক্রিয়া,প্রতিবেশীর অধিকার, সামাজিক দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় কর্তব্য, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জুলুমবিহীন শাসন


হারাম শুধু মদ বা শুকরের মাংস নয়। আধুনিক প্রেক্ষাপটে এর প্রকাশ:

- ঘুষ, দুর্নীতি, জালিয়াতি

- সুদের লেনদেন

- শোষণমূলক ব্যবসা

- পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ড

- মানবাধিকার লঙ্ঘন

- তথ্য গোপন বা বিকৃতি


প্রার্থনার প্রথমাংশ: হালাল রিজিকের জন্য আবেদন, আধ্যাত্মিক প্রভাব হালাল রিজিক ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। হাদীসে এসেছে: "হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।" হালাল খাদ্য আত্মার পরিশুদ্ধি, দোয়ার কবুলiyat এবং নৈতিক চরিত্র গঠনে সহায়ক।


সমাজে হালাল অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত হলে:

- আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানবোধ বৃদ্ধি পায়

- সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়

- দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাস পায়

- পারিবারিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে

- সামগ্রিকভাবে সমাজে আমানতদারিতা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়


হালাল অর্থনীতি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করে:

- প্রকৃত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি

- সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন

- অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা

- দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধি


হারাম থেকে বেঁচে থাকা শুধু বাহ্যিক আনুগত্য নয়, এটি একটি নিবির আত্মিক সংগ্রাম। আধুনিক বিশ্বে:

- হারামের প্রলোভন সর্বত্র বিদ্যমান

- সামাজিক চাপ ও প্রত্যাশা

- অর্থনৈতিক প্রয়োজনের নামে নৈতিক সমঝোতা

- পারিবারিক ও সামাজিক প্রত্যাশার চাপ


এই সবকিছুর মাঝে হারাম থেকে বেঁচে থাকার স্বস্তি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ছাড়া সম্ভব নয়।


"বি-ফাদলিকা" (আপনার অনুগ্রহ দ্বারা) শব্দটি আমাদেরকে শিক্ষা দেয়:

- আল্লাহর রহমতের উপর পূর্ণ আস্থা

- নিজের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্বীকার

- ঐশী সাহায্যের প্রতি নির্ভরতা

- নম্রতা ও বিনয়ের মনোভাব


এই দোয়ার মাধ্যমে মুমিন আল্লাহর কাছে দুটি জিনিস চায়: হালাল রিজিক এবং হারাম থেকে বাঁচার স্বস্তি। প্রথমটি বাহ্যিক প্রাপ্তি, দ্বিতীয়টি অভ্যন্তরীণ শান্তি। দুটির সমন্বয়েই তৈরি হয় সফলতা ও শান্তির পরিপূর্ণ জীবন।


রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "হালাল স্পষ্ট, হারামও স্পষ্ট। আর এ দুয়ের মাঝে অনেক সন্দেহজনক বিষয় রয়েছে।" এই সন্দেহের অঞ্চল থেকে বাঁচার জন্যও আল্লাহর বিশেষ ফযল প্রয়োজন, যা এই প্রার্থনার দ্বিতীয়াংশে আবেদন করা হয়েছে।


আধুনিক যুগের জটিলতা, অর্থনৈতিক চাপ ও নৈতিক প্রলোভনের মুখোমুখি এই প্রার্থনা আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক ও অপরিহার্য করে তোলে। এটি শুধু মুখে উচ্চারিত শব্দ নয়, বরং হৃদয় থেকে উৎসারিত একটি জীবনবোধ, যা আমাদের প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত, কর্ম ও সম্পর্ককে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে পরিচালিত করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই মহান প্রার্থনার প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করে তা জীবনে বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন। আমীন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ